রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের আগস্ট থেকে একে একে বন্ধ হতে থাকে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বেক্সিমকো) কারখানা। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত ইয়ার্ন ইউনিট-১ ব্যতীত সব কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এসব কারখানা পুনরায় চালুর চেষ্টা করছে কোম্পানিটি। তারা আশা করছে, কারখানা চালু হলে আগামী বছর ৩৮০ কোটি টাকা নিট মুনাফা হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে সম্প্রতি ‘বেক্সিমকোর ১৫ কারখানা চালু করতে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আসছে’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা জানতে চায় ডিএসই। এর জবাবে বেক্সিমকো জানিয়েছে, প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক। চলতি বছরের অক্টোবরে কারখানাগুলো চালু হলে আগামী বছর শেষে ৩৮০ কোটি টাকা নিট মুনাফা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বেক্সিমকোর শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৭৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৮২ টাকা ৫৭ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে বেক্সিমকোর শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪১ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৭ টাকা ৯২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ৫৮ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে বেক্সিমকোর ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৯২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৪ টাকা ১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৯৫ টাকা ১৪ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বেক্সিমকোর পর্ষদ। সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানটি।
১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকোর অনুমোদিত মূলধন ৩ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৪৩ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭ হাজার ৫৯২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪২। এর ৩৩ দশমিক ১১ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩২ দশমিক ৫৮, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক ৯৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।